
সকালের রুটি কিংবা বিকেলের নাস্তা সব জায়গাতেই প্রয়োজন হয় আটা অথবা ময়দা। আমাদের অনেকেই আবার ময়দা ও আটার পার্থক্যই বুঝতে পারেন না। ময়দার উপকারিতা ও অপকারিতা সবই রয়েছে।
আসুন জেনে নেই ময়দার উপকারিতা ও অন্যান্য তথ্য
মজার মজার রান্না করতে ময়দার তুলনা হয় না। আটা এবং ময়দা বানানোর প্রক্রিয়া ভিন্ন। গম পিষে তৈরি করা হয় আটা। কিন্তু ময়দা বানাতে আটাকে পরিশোধিত করা হয় এবং গমের খোসা আলাদা করা হয়। ময়দার যেমন উপকারিতা আছে ঠিক অপকারিতাও আছে।
ত্বকের যত্নে ময়দার ব্যবহার
ময়দার অনেক গুণ রয়েছে। খুব সহজেই ময়দার সঙ্গে বেসন মিশিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। বর্তমান এমন পরিস্থিতিতে নিজের জন্য একটু সময় বের করে ত্বকের যত্ন নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আবার তা যদি হয় ময়দার মত উপাদান ব্যবহার করে তাহলে ত্বকের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে ময়দা ব্যবহার করা যায়। নামিদামি পার্লারে না গিয়ে এবং টাকা খরচ না করে খুব সহজেই ময়দা দিয়ে ফেসপ্যাক বানানো যায়। এক চামচ ময়দার সঙ্গে দু’চামচ বেসন মিশিয়ে নিন। এর পরে ময়দা ও বেসনের মধ্যে এক চামচ পাতিলেবুর রস ও এক চামচ দুধ মিশিয়ে প্যাকটি বানানো হয়, ১৫-২০ মিনিট মুখের মধ্যে লাগিয়ে রেখে দিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এরপর পানি দিয়ে ভালো মত মুখটি ধুয়ে ফেলতে হবে।
আরো একটি ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে লাগানো যায়। যে কোনো ত্বকে এই ময়দার ফেস-প্যাক ব্যবহার করা যায়। ২ চামচ ময়দার সঙ্গে ১চামচ বেসন মেশান। আর ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চামচ মধু , ১ চামচ লেবুর রস ও ১ টি পাকা কলা দিয়ে প্যাকটি বানাতে হয়। ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগানোর পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর করার জন্য
অনেক মানুষেরই মুখ অনেক তৈলাক্তভাব হয়ে থাকে। ময়দা ব্যবহার করে মুখের তৈলাক্ত ভাব এক নিমেষে দূর করা সম্ভব। ২ চামচ ময়দা, ১ চামচ বেসন, ১ চামচ লেবুর রস, ১ চামচ গোলাপ জল, ১ চামচ চন্দন গুঁড়ো দিয়ে প্যাকটি বানানো হয়। ১৫-২০ মিনিট মুখে লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ভালো মত ধুয়ে নিতে হবে।
ত্বকের ট্যান দূর করতে
অনেক সময় অতিরিক্ত সূর্যের তাপ লেগে মুখের চামড়া পুড়ে যায়। মুখের এই ট্যান তুলতে ময়দা সাহায্য করে।২ চামচ ময়দা, ১ চামচ বেসন, ২ চামচ পাকা পেঁপের প্লাপ, ১ চামচ কমলালেবুর রস দিয়ে প্যাকটি বানানো হয়। ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
ব্রণ দূর করার জন্য
ব্রণ দূর করার খুব সহজ পদ্ধতি এবং উপাদান বাড়িতে আছে সেটি হলো ময়দা।খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা যায় ঘরে বসেই। ১ চামচ ময়দা, ১ চামচ বেসন ও ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে প্যাকটি বানানো যায়। মুখের যেখানে ব্রণ রয়েছে সেই জায়গা গুলোতে প্যাকটি লাগাতে হবে। ১০ মিনিট মুখে লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ভালো মত ধুয়ে ফেলতে হবে ।
শরীরে প্রয়োজনীয় উপাদান বৃদ্ধি করে
ভিটামিন বি, প্রোটিং এবং উপকারি ফ্যাট রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য উপকারি। সারাদিনে প্রোটিং চাহিদার ২৩% ময়দা পূরণ করতে পারে। শরীরে শরীরের শক্তি যোগাতে ময়দা সাহায্য করে।
পরিষ্কার করার জন্য
দূর্ঘটনাবাত কোনো ভাবে তেল পরে গেল কোথাও আর এই তেলতেলে ভাব উঠানাে অনেক ঝামেলা। তেলের উপর ময়দা ছিটিয়ে দিতে হবে যেন ময়দা ভালো মত সব তেল শুষে নিতে পারে । এরপর একটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললেই তেলতেলে ভাব আর নেই।
এমনকি তেল চিটচিটে সিঙ্ক পরিষ্কার করতেও ময়দা অনেক উপকারী। আগের মতই সিঙ্কে ময়দা ছড়িয়ে দিতে হবে এরপর ভেজা একটি কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে।
গাছে পোকার আক্রমণ রোধে
অনেক সময় দেখা যায় পোকার আক্রমণে ছোট ছোট গাছ মরে যায়। এই ছোট ছোট গাছকে পােকার আক্রমণ থেকে বাচাঁতে ময়দা ভালাে কাজ করে। একটি লবন দানিতে ময়দার সাথে ভালো করে পানি মিশিয়ে ঝাকিয়ে নিয়ে গাছের গােড়ায় ছেড়ে দিতে হবে। সব পােকা বের হয়ে যাবে। ২ দিন পর পানি দিয়ে ময়দা ধুয়ে ফেলতে হবে।
শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহার করা যায়
চুলের যত্নের জন্য ময়দা ব্যবহার করা যায়। ময়দা ড্রাই শ্যাম্পু হিসেবে কাজ করে। চুলের তৈলাক্ত দূর হয়ে যাবে।
অল্প পরিমাণে ময়দা চুলের গোড়ায় দিতে হবে তারপর হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে ভালো মত চুল থেকে ময়দা আলাদা করতে হবে।
ময়দার অপকারিতা
সকালের নাস্তায় রুটি বা পরোটা বেশ জনপ্রিয় আমাদের দেশে। ময়দা দিয়ে তৈরিকৃত পিজা,পাস্তা, নুডলস, বার্গার, ডোনাট, কেক, পেস্ট্রি, লুচি, পরোটা, মোগলাই, সিঙ্গারা সবার কাছেই প্রিয়। অন্যদিকে আটাতে তৈরী খাবার বেশি স্বাদ না হলেও শরীরের জন্য কিন্তু অনেক উপকারী। গম পিষে তৈরি করা হয় আটা। কিন্তু ময়দা বানাতে আটাকে পরিশোধিত করা হয় এবং গমের খোসা আলাদা করা হয়। এই জন্যই ময়দা দিয়ে তৈরিকৃত খাবার খেতে সুস্বাদু হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে ময়দা তৈরি করার সময় জরুরি নিউট্রিশনস ও ভিটামিন গুলি নষ্ট হয়ে যায় এবং যা অ্যাসিডক এ পরিণত হয়। যে কারণে এটি আমাদের শরীরে ক্যালসিয়ামকে ক্ষয় করে।আমাদের শরীরে হাড়গুলির ঘনত্ব কমে যায়। তাই ময়দা জাত দ্রব্য বেশি মাত্রায় খেলে আর্থারাইটিস এবং আরো নানা ধরনের রোগের জন্ম দিতে পারে।
ময়দাকে ‘অল পারপাসস ফ্লাওয়ার’ বলে থাকি সবাই। ময়দার এই সুন্দর ও মসৃণভাব আনার জন্যে রাসায়নিক উপাদান দিয়ে ব্লিচ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আটায় এসব কিছুই প্রয়োগ করা হয় না তাই ময়দার থেকে আটা বেশি স্বাস্থ্যকর।
ময়দা ও আটার পার্থক্য
আটা ও ময়দার মধ্যে পার্থক্য গুলো হলো:
- গমের উপরের আস্তরণ তুলে ময়দা তৈরি করা হয় এবং আটা আস্তরণ না তুলেই তৈরি করা হয়।
- ময়দা তৈরির সময় ভুষি বের হয় কিন্তু আটর তৈরির সময় গমের ভুষি বের হয়না।
- গম থেকে ময়দা বানানোর মেশিন ও আটা বানানোর মেশিন দুটোই সম্পূর্ণ আলাদা।
- ময়দার থেকে আটার দাম কম।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন হোটেলে ময়দা বেশি ব্যবহার করা হয় কিন্তু ঘরোয়া পরিবেশে আটা বেশি ব্যবহার করা হয়।
- সাধারণত পিঠা, কেক, পাউরুটি, রুটি, পরোটা ইত্যাদি খাবার তৈরি করার জন্য ময়দা লাগে। ঘরোয়াভাবে রুটি তৈরি করার জন্য আটা ব্যবহার করা হয়। নানরুটি বা তন্দরুটিতে আটার চেয়ে ময়দা ব্যবহার করলে তা ভাল ফোলে।
উপসংহার






Leave a Reply